অনেকেরই হঠাৎ হাত–পা কেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে। আগের মতো তেমন জোর নেই। হাত–পা অবশ লাগা অথবা শরীরের দুর্বলতার কথা বলেন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই মাংসপেশির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার নমুনা পাওয়া যায় না। কারও যদি রক্তশূন্যতা, হৃদ্‌রোগ অথবা ফুসফুসের সমস্যা, কোমরের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা বা দীর্ঘদিন ধরে কোনো ইনফেকশন থাকে, তাহলে তাঁরা সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এই ক্লান্তি বা অবসাদকে অনেকে হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা মাংসপেশির দুর্বলতা ভেবে ভুল করে থাকেন। ভালোমতো প্রশ্ন করলে বোঝা যায়, তারা আসলে গিরার ব্যথা, মাংসপেশিতে খিঁচ ধরা—এই ধরনের কোনো সমস্যার কারণে হাত বা পায়ের ব্যবহারে অসুবিধা বোধ করছেন। দীর্ঘদিন রোগে ভুগে কেউ যদি শয্যাশায়ী থাকেন, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রেও হাঁটাচলা করার সময় মাংসপেশিতে দুর্বল বোধ হতে পারে। 

তবে যদি কেউ শুধু শরীরের এক পাশের হাত, পা বা উভয়টির দুর্বলতা অনুভব করেন, তবে সে ক্ষেত্রে চিন্তার ব্যাপার আছে। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ হাত দিয়ে দৈনন্দিন কাজ, যেমন চুল আঁচড়ানো, গ্লাসে পানি ঢালা—এ ছোট কাজ গুলো করতে পারেন না। যেকোনো এক পাশের হাত বা পা হঠাৎ করে দুর্বল হয়ে যাওয়া (মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে) স্ট্রোকের কারণে হতে পারে। 

সাধারণ মানুষ যাতে এটি সহজে বুঝতে পারেন, এ জন্য একটি স্কোরিং সিস্টেম আছে, সংক্ষেপে যাকে বলে ফাস্ট (FAST)।


১) F (Face) মুখের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা মুখ এক পাশে বেঁকে যাওয়া


২) A (Arm) এক পাশের হাত অথবা পায়ে দুর্বলতা অনুভব করা।


 ৩) S (Speech) কথা বলতে অথবা বুঝতে সমস্যা হওয়া।


 ৪) T (Time) ওপরের যেকোনো একটি সমস্যা অল্প সময়ের মধ্যে শুরু হওয়া (মিনিট থেকে ঘণ্টা)।


এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে একমুহূর্তও সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে। এ ব্যাপারে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। 

এ জন্য স্ট্রোকের রোগীদের নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেওয়া উচিত। স্ট্রোক হওয়ার এক থেকে দুই সপ্তাহ পর থেকে ফিজিওথেরাপি করলে অনেক রোগীর দুর্বল হাত বা পায়ের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।